ঝুঁকিতে মাতুয়াইল বিদ্যুৎ অফিস!
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-০৭-২০২৬ ০২:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৭-২০২৬ ০৩:৪৫:১১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
বৃষ্টি হলেই প্রতিবছরই পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) মাতুয়াইল দফতর। এতে ভাড়াকৃত ভবনে পরিচালিত ওই অফিসটির বিভিন্ন কক্ষ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কম্পিউটার, দাপ্তরিক নথিপত্র ও অন্যান্য সরকারি সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে, ভবনের বৈদ্যুতিক লাইন সচল থাকায় ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা গ্রাহকেরাও পড়েছেন বিদ্যুৎস্পর্শের ঝুঁকিতে। এদিকে, নিজস্ব অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ভাড়া করা ভবনে দফতর পরিচালনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (১২ জুলাই) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, নিচতলার প্রতিটি কক্ষ হাটুপানিতে নিমজ্জিত। পানি প্রবেশের কারণে স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদে অফিস পরিচালনা করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, প্রতিবছর বর্ষাকালেই এই দুর্ভোগ পোহাতে হয় সংশ্লিষ্টদের।
সেবা নিতে আসা ওই এলাকার দুই বিদ্যুৎগ্রাহক আব্দুর রহমান ও শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুতের বিভিন্ন সেবা নিতে মাঝে-মধ্যেই অফিসে আসতে হয়। আর বর্ষাকাল হলেই একটি সরকারি অফিস এভাবে পানিতে ডুবে যাচ্ছে, যা রীতিমত দুঃখজনক। দ্রুত অফিসটি স্থানান্তর অথবা জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
বিষয়টি নিয়ে মাতুয়াইল অফিসের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা এড়িয়ে যান।
ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ের সম্পত্তি বিভাগ ও অর্থ বিভাগের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আট মাস আগে ডিপিডিসির সাবেক অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা (অতিরিক্ত সচিব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আহ্মদ বিষয়টি অবগত হয়ে জিটুজির তত্ত্বাবধানে নির্মিত নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ভবনের উপরে মাতুয়াইল ডিভিশনটি স্থানান্তরের বিষয়ে অনুমোদন দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অফিসটি স্থানান্তরের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সূত্রে জানা যায়, নিজস্ব অবকাঠামো ও স্থায়ী দাপ্তরিক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াকৃত ওই ভবনে দফতর পরিচালিত হওয়ায় এর যৌক্তিকতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও পানি প্রবেশের সমস্যা নতুন নয়; তবুও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
জানা যায়, বর্তমানে মাতুয়াইল অফিসটি যে ভবনে রয়েছে তার মাসিক ভাড়া বাবদ প্রায় ৮৫ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষকে। সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত লাভের কারণে প্রধান কার্যালয়ের গুটিকয়েক কর্মকর্তা অফিসটি স্থানান্তরের 'বাধা' হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনাসহ সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাঁরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে অফিসটি সাইনবোর্ড এলাকায় বরাদ্দকৃত ভবনে স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ডিপিডিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা হাবিবুন নাহার (অতিরিক্ত সচিব) এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স